[TechSa #1] Smart Phone কেনার পূর্বে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই অবগত হতে হবে !

Smart Phone! কথা বলতে চাচ্ছিলাম Smart Phone নিয়ে। আমরা সাবাই Feature Phone গুলোর সাথে পরিচিত। Feature Phone গুলো আমরা মূলত সৌন্দর্য্য আর ক্যামেরা দেখেই কিনতাম । আর সাথে সাথে অবশ্যই ব্রান্ডটাকে প্রাধান্য দিতাম। কিন্তু Smart Phone যখন থেকে সকলের হাতে হাতে আসা শুরু করল তখন ক্যালকুলেশনটাও একটু বেড়ে গেল। চলুন জেনে নেওয়া যাক একটি ভাল মানের স্মার্ট ফোন আপনার বাজেটের মধ্যে পেতে কোন দিকগুলো লক্ষ্য রাখবেন। আমি যেটা ব্যক্তিগতভাবে নিজের ক্ষেত্রে এবং আমার কাছে কেও সাজেশন চাইলে করে থাকি সেই পদ্ধতিটিই সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি।

  1. Budget.
  2. Processor+GPU.
  3. RAM.
  4. Storage.
  5. System Software update service.
  6. Battery.
  7. Camera.
  • ‌Budget : স্মার্ট ফোন কেনার আগে অবশ্যই ঠিক করে নিবেন আপনার সর্বোচ্চ বাজেটটি । বাজেট ঠিক হয়ে গেলে, এই বাজেটে বাজারে সব থেকে ভাল যে ফোনটি আছে সেটি আপনাকে বাছাই করতে হবে। চলুন এইবার কীভাবে বাছাই করবেন দেখে নেওয়া যাক।
  • ‌Processor : প্রসেসর বা Processor! বর্তমানে যেসকল মডার্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের মস্তিষ্ক হল প্রসেসর । মোবাইল মার্কেটের প্রসেসরগুলো হল Qualcomm Snapdragon, Exynos, Mediatek, Kirin এছাড়াও আরও কিছু ব্রান্ডের Processor বিদ্যমান। আমি personally Snapdragon-কে পছন্দ করি। আর কারণটা একটু পরেই হয়ত জানতে পারবেন।
    তবে Exynos ও খুবই powerful একটি প্রসেসর। MediaTek এবং Kirin মোটামুটি ভালই। কিন্তু এদেরও powerful processor বিদ্যমান। আপনার বাজেট যদি হয় ১০,০০০ এর নিচে তবে MediaTek প্রসেসরের উপরই আপনাকে ভরসা করতে হবে । সেক্ষেত্রে বাজেট ১০,০০০ এর বেশি হলে Snapdragon processor -এর ফোনটি নিতে পারবেন । কেননা এর performance, GPU, build quality অন্য সকল প্রসেসর থেকে যথেষ্ট ভাল। আর একমাত্র Qualcomm Snapdragon এ সব থেকে powerful GPU (Adreno) দিয়ে থাকে । মিড রেঞ্জ এর কিছু ফোনে আর ফ্লাগশিপ ফোনগুলোতে এই প্রসেসর বেশ লক্ষ্য করা যায়।
  • ‌RAM : RAM এর ক্ষেত্রে কম করে হলেও 3 GB নেওয়ার চেষ্টা করবেন। কেননা দিনকে দিন Software এর size বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আপনার RAM বাছাইটা সঠিক হওয়া জরুরী। একটা সময় আমরা 1GB RAM এর ফোন চালিয়েই সন্তুষ্ট থাকতাম। কিন্তু বর্তমানে 1 GB RAM এর ফোনগুলো অনেকটা অকেজো বললে খুব একটা ভুল হবে না।
  • Storage : Secondary Storage এর কথা ভুলে Main storage কে প্রাধান্য দেওয়া উচিত প্রথমে। Phone এর ক্ষেত্রে Secondary storage হল memory card আর main storage হল যে storage Phone এর ভিতরেই আগে থেকে থাকে। 8 কিংবা 16 না নেওয়াই ভাই। কেননা এতে আপনি খুব বেশি Application install করতে পারবেন না। আমার ব্যক্তিগত মতামত হল কমপক্ষে 32 GB storage দেখে phone কেনা। তাহলে Application install এর ক্ষেত্রে storage নিয়ে কোনো সমস্যায় ভুগবেন না।
  • Battery : আমরা অনেকেই ব্যাটারি যত বেশি হবে তত ভাল ফোন মনে করে থাকি সেটাকে। ব্যাপারটা এমনই আবার এমন না। Battery বেশি হলে অবশ্যই ভাল । কারণ দীর্ঘক্ষণ আপনি ফোন চার্জে না দিয়েই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে আমি মনে করি ব্যাটারি খুব একটা প্রভাব ফেলবেনা যদি ফোনের পার্ফরমেন্স নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট হ্ন । আর ব্যাটারি এর প্রেমে পড়ে কম ব্যাটারি ওয়ালা ভাল ফোন রেখে, বেশি ব্যাটারি ওয়ালা খারাপ ফোন কেনার কোনো যুক্তিকতা নেই । কমপক্ষে একদিন চলে যেবে এমন নিলেই হবে। তবে এটাকে আমি যার যার ইচ্ছার উপরই ছেড়ে দিব। আর অনেকের মনে আক্ষেপ থাকে “ইস ওই ফোনটা powerbank এর মত ব্যাকআপ দেয় !”। তাদের কাছে আমার অনুরোধ ” দয়া করে Smartphone কে smartphone এর জায়গায় রেখে powerbank-কে তার জায়গায় শান্তি মত থাকতে দিন এবং নিজে খুশি থাকুন!” । অবশ্যই battery capacity 3000 mAh এর নিচে নিবেন না। কেননা আবার কম হলে, চার্জ সংকটে ভুগবেন। তাই আপনার নিজের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুর দিকেই খেয়াল রাখবেন।
  • System Software Update service : System software হল আপনার ফোনে ব্যবহৃত software যেটি আপনাকে সাহায্য করবে অন্য সকল প্রকার software/application আপনার ফোনে সচল রাখতে। যেমনঃ Android, iOS (** Android কে customize করে অনেক ফোনের ব্রান্ড কম্পানি নিজেরা তাদের ফোনের জন্য আলাদা আলাদা system software তৈরী করে থাকে)।
    আপনি আজকে যে ফোনটি কিনছেন। আজকে কিনে কালকে ব্যবহার করে পরশুদিন ফেলে দেওয়ার জন্য নয়। কেও হয়ত কয়েকবছর । কেওবা বছর খানেক! ব্যবহারকারী কতদিন ব্যবহার করবে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। তবে এই কথা বলার কারণ টা হল, আপনি ফোনটি কিনছেন দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার করার জন্য। তো দীর্ঘদিন ব্যবহার করার সময় আপনি নানাবিধ সিকিউরিটি সমস্যার সম্মুখিন হতে পারেন। আর এই সিকিউরিটি সমস্যাগুলো হ্যান্ডেল করার জন্য ডেভলপাররা security patch update দিয়ে থাকে । আর Android system এর ক্ষেত্রে Google নিয়মিত system software security patch এর update দেয়। এই security patch এর update আপনার নিকট পৌছে দেওয়ার মূল দায়ভার আপনার ফোনের ব্রান্ডের উপরই বর্তায়। তাই ফোন কেনার আগে জেনে নিন আপনি যে ব্রান্ড কম্পানি থেকে ফোন কিনবেন তারা নিয়মিত system software update এর মাধ্যমে আপনাকে security patch প্রদান করে কিনা । আর যদি করে তবে কত দিন পর্যন্ত করবে।
  • Camera : Camera শেযের দিকে রাখার প্রধান কারণ হল এটি smartphone এর একটা ফিচার মাত্র। কিন্তু বিভিন্ন কম্পানি এই ফিচারকে পুঁজি করেই ফোন বিক্রি করে । Camera filter না দেখে, Camera module দেখে ফোন কিনুন। Camera filter software নির্ভর যা ছবি তোলার পর অনেকটা ফটোশপের কাজ করে। আর এত খারাপ ভাবে ফোটো edit করে আপনি নিজেই আপনাকে চিনতে পারবেনা। আর camera module হল hardware অর্থাৎ ফোনে camera এর জন্য কোন sensor, lens ব্যবহার করছে এটা । আর এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে ফোনের দামের ওপর অনেকটা । কম দামের ফোন থেকে বেশি কিছু আশা করা ঠিক হবেনা। তাই ক্যামেরা এর জন্য আপনার দামের সাথে তুলনা করে যেটি ভাল হবে সেটি নিবেন।
  • Others:
    ১. Sound quality দেখে নিবেন
    ২. Mic কেমন দেখে নিবেন। (সাথে secondary noise cancellation mic থাকলে বেস ভাল হয়)
    ৩. Design আপনার ভাল লাগলে তারপর Build Quality টাও দেখে নিবেন।

বিদ্রঃ Low price, Mid range, flagship এই তিনটি তিন ক্যাটাগরির ফোন। কখনই এক brand এর mid range এর সাথে অন্য brand এর flagship ফোন গুলোর মধ্যে তুলনা করবেন না। আপনার প্রয়োজনীয়তার অপর নির্ভর করে বাজেট ঠিক করুন ও দেখেশুনে ভাল টা কিনুন। পরবর্তীতে কোনো আক্ষেপ রাখবেন না । তাহলে ফোন চালিয়েও শান্তি পাবেন না যেটাই কিনুন।

এখানে আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছি। কোনো কিছু ভুল বলে থাকলে মার্জনা দৃষ্টিতে দেখবেন এবং অনুগ্রহপূর্বক আমাকে অবহিত করবেন ।আর কোনো কিছু জানার প্রয়োজন থাকলে কমেন্ট সেকশনে অবশ্যই জিজ্ঞেস করবেন।

2 comments
মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Previous Post
৪৮ মেগাপিক্সেলের শাওমি রেডমি

শাওমি এবার নিয়ে আসছে ৪৮ মেগা পিক্সেলের ফোন

Next Post

[কম্পিউটার কাব্য #১] কম্পিউটার – রহস্য বাক্স বনাম জাদুর বাক্স !

Related Posts

ওয়েব হোস্টিং নির্বাচনের পূর্বে – প্রথম পর্ব

ইন্টারনেট(Internet) যেভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে উন্নত, ঠিক একইভাবে মানুষের কাছে পৌছানোটাকেও করেছে সহজলভ্য। আর এই সহজলভ্যতার রয়েছে যেমন…
পড়ুন

আমরা কতটুকু নিরাপদ সোশ্যাল মিডিয়া-এর হাত থেকে!

প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে সাথে দৈনন্দিন জীবনে আমরা যতটা না নিজেদের বন্ধুদের চিনি তার থেকে বেশি চিনি আমাদের ভার্চুয়াল/কাল্পনিক…
পড়ুন