রিফারবিশড ফোন কি,কিভাবে রিফারবিশড ফোন চিনব?

আমরা যখনই কোনো নতুন ফোন কিনতে যায়,তখনই মাথায় সর্বদা একটা কথাই ঘুরপাক খায়,কিভাবে বুঝব যে আমার ফোনটা অরিজিনাল,রিফারবিশড ফোন কি ও কিভাবে এটা চিনব?
আসলে আমার আজকের পোস্ট টির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, রিফারবিশড ফোন সম্পর্কে হালকা ধারনা,আর কিভাবে রিফারবিশড ফোন শনাক্ত করা যায় তা নিয়ে কিঞ্চিৎ পরিমান জ্ঞান লাভ করা।তবে আমার এই পোস্ট টার দ্বারা আপনি ১০০% নিশ্চিত হতে পারবেন না যে ফোনটা রিফারবিশড কিনা।কারণ কোনটা রিফারবিশড আর কোনটা রিফারবিশড না সেটা ১০০% শিওর কেউ বলতে পারবে না ব্যাবহার না করে।

প্রথমত, রিফারবিশড ফোন কি?

যে পণ্য কোনো ত্রুটির কারনে ফেরত নিয়ে,সে ত্রুটি সমাধান করে পুনরায় প্যাকিং করে আবার বাজারে ছাড়া হয় তাকে রিফারবিশড পণ্য বলে।

#উদাহরণ:

আপনি একটা ফোন কিনলেন।তো কেনার পর ফোনে ছোট একটা সমস্যা দেখতে পেলেন তো কিছুদিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি থাকার কারনে সে ফোন আপনি যেখান থেকে কিনেছিলেন ওখানে ফেরত দিলেন।রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি থাকার কারনে আগেরটার বদলে আরেকটা নতুন ফোন আপনাকে দেওয়া হলো।।তো যে ফোনটা আপনি ফেরত দিয়ে এলেন সে ফোনটার যে সমস্যা ছিল সেটা তারা আবার প্যাকিং করে বাজারে ছাড়লো।তো এটাই হচ্ছে রিফারবিশড ফোন।

তবে ভাই রিফারবিশড ফোন কিন্তু অরিজিনাল হয়।কিন্তু কথা হচ্ছে অরিজিনাল হোক আর যায় হোক,কেন আমি টাকা দিয়ে অন্যের ব্যাবহার করা ফোন কিনব?

রিফারবিশড ফোন চেনার কিছু উপায়:
★প্রথমে আমি আপনাকে যে কথাটা বলবো সেটা হচ্ছে ট্রাস্টেড শপ থেকে ফোন কিনুন।ট্রাস্টেড শপ রিফারবিশড বিক্রি করে না,তাই তাঁদের কাছ থেকে কিনকে পারবেন কোনোরকম টেনশন ছাড়াই।
★যে ফোনটা কিনবেন সেটা বক্স থেকে বের করে, চার্জিং পোর্ট ও অডিও জ্যাক পোর্ট টা ভাল ভাবে লক্ষ করুন।দেখেন পোর্টে কোনো রকম দাগ বা ময়লা বা অন্য কিছু আছে কিনা।
★ফোনের বডি টা ভালভাবে খেয়াল করে দেখুন কোনো রকম দাগ বা অন্য কোনো সমস্যা আছে কিনা।
★ফোন ৫-১০ মিনিট ব্যাবহার করে দেখুন।কোনো সমস্যা পান কিনা।
★Message,Setting,Notes,Gallery etc চেক করে দেখুন কোনো ইনফরমেশন পান কিনা(যদিও এগুলা থাকে না,তবুও দেখতে দোষ কি?)

যদি শাওমি হয় তাহলে:

★Mi Verification এর মাধ্যমে টেস্ট করুন:প্রথমে এপ টা অন্য ফোন দিয়ে ডাউনলোড করে নিন।এবার ফোনটা বক্স থেকে বের করে এপটা শাওমি ফোন, আইমিন যেটা কিনবেন সেটাতে নিন।এবার এটা ইনস্টল দিন ও মোবাইল ডাটা অন করুন।এবার কোড স্ক্যানার টা ওপেন করুন।এবার আপনার আগের ফোনের ব্রাউসার দিয়ে এই লিঙ্কে যান https://jd.mi.com এখানে গেলে QR কোড টা শো করবে।এখন আপনি যে ফোনটা কিনবেন সেটা দিয়ে কোডটা স্ক্যান করুন।উল্লেখ্য যে দুইটা ফোনেরই মোবাইল ডাটা অন রাখবে।

এবার আপনার আগের ফোনে, নতুন শাওমি এর নাম,imei, ইত্যাদি দেখাবে।আরেকটা জিনিস মনে রাখবেন যে নতুন ফোনটা কতবার ভেরিফাই হইছে।আপনি যদি বক্স থেকে বের করেই একবার ভেরিফাই করে থাকেন,আর যদি ওখানে একবার ভেরিফাই দেখায় তাহলে সেটা স্বভাবিক। আর যদি অনেকবার ভেরিফাই দেখাই তাহলে ওটা নিবেননা।কারন ওটা রিফারবিশড হতে পারে।

★অফিশিয়াল রমের ক্ষেত্রে বুটলোডার টা চেক করুন, Setting>Additional Setting >Developer Option >Mi Unlock Status টা দেখুন লক নাকি আনলক করা।অফিশিয়াল রমে এটা লক করা থাকে।

★অনেক ভুয়া অনলাইন শপ আছে যারা মাত্রাতিরিক্ত দাম কম রাখে,তাদের কাছ থেকে ফোন না কেনাই বেটার।কারণ অনলাইন থেকে কিনলে তো আর উপরের বিষয় গুলো দেখে নিতে পারবেন না।
যেহেতু আপনি এই পরীক্ষা গুলো করবেন ফোন আনবক্স করার পর,আর আনবক্স করার পর যদি এই সমস্যা গুলা পান তাহলে তো আপনি সেটা নিতে চাইবেন না তাই দোকানদারও আপনার সাথে ঝামেলা করতে পারে,সেজন্য আপনি দোকানদারের সাথে আগেই এই বিষয়ে কথা বলে নিবেন।
আশাকরি উপরের কাজ গুলো আপনাকে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Previous Post

মিডিয়াটেক ও স্ন্যাপড্রাগন চিপসেটের ভিতরে পার্থক্য

Next Post

সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার সময় যে বিষয়গুলো মনে রাখা উচিৎ!

Related Posts

সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার সময় যে বিষয়গুলো মনে রাখা উচিৎ!

অনেকেই হয়তো টাকা স্বল্পতার কারণে নতুন ফোন না কিনে পুরাতন ফোন কিনে থাকেন।কিন্তু কেনার পর যখন কোনো সমস্যা…
পড়ুন

মোবাইল ডিসপ্লে কোনটা ভালো? AMOLED vs IPS LCD vs OLED vs Retina

আমরা যখন মোবাইল কিনি তখন বেশিরভাগ মানুষ যে জিনিষ দেখে কিনে তা হচ্ছে স্মার্টফোনের র‍্যাম, ইন্টার্নাল স্টোরেজ কিংবা…
পড়ুন